শুচিবায়ু
একই চিন্তা বারবার মনের মধ্যে চলে আসা, আর সেটি থেকে বের হতে না পারা, আবার একই কাজ বার বার করতে থাকা, কিন্তু তবুও মনের অস্থিরতা না কমে আসা, এই জটিলতার চক্রে আটকে পরে অন্য সব কাজ এলোমেলো হয়ে যায় আমাদের। তখন এটিকে আমরা বলি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার যা বাংলায় শুচিবায়ু রোগও বলা হয়। এই চিন্তা ও কাজের চক্র থেকে বের হয়ে আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের কাজ ঠিক মত করতে পারি, তখন ওটা তেমন একটা অসুবিধা সৃষ্টি করেনা। কিন্তু যদি ঐ জটিলতার চক্র থেকে আর বের হতে পারিনা, তখন এটি আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনকে ব্যাহত করে, আর আমরা অস্বস্তি, ভয়, সংশয়, দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।
আমাদের যেমন শরীরে নানারকম রোগ হয়ে থাকে তেমনি এটি একটি মনের রোগ। কিছু মনের রোগে পথ্য বা ঔষধ সেবনের জন্য আমাদেরকে সাইকিয়াট্রিক ডক্টর বা মানসিক রোগ এর চিকিৎসক এর কাছে যেতে হয়, আবার কিছু মনের জটিলতা থেকে বের হতে আমাদেরকে সাইকোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হতে হয়। একজন সাইকোলজিস্ট বা মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর বিভিন্নরকম মনোসামাজিক থেরাপীর মাধ্যমে মনের রোগের জটিলতায় ভুক্তভুগীকে মনোসামাজিক সেবা দিয়ে থাকেন।
এভাবে ধীরে ধীরে রোগী নিজের সমস্যা মোকাবেলা করে সুস্থ্য জীবন যাপন করতে পারেন। তাই শরীরের ডাক্তার এর সহযোগীতা নিতে আমরা যেমন দ্বিধা করিনা, তাই মনের জটিলতায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে দ্বিধা না করে, বিশেষজ্ঞের সহযোগীতা নেয়া জরুরি। কারণ আপনার মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতই আপনার সার্বিক সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্ব বহন করে।
এই গানটি শুচিবায়ু বা অবসেসিভ কমপালসিভ সমস্যায় ভুক্তভুগীদের প্রেক্ষাপট ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরেছে যা, কিছুটা সচেতনতা তৈরি করবে বলে আশা করছি।
-
শাম্মী আক্তার
মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর
গ্রীণফোটেল

Comments
Post a Comment