ঘুণে ধরা মেরুদণ্ড
বর্তমানে যারা মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর পেছনে মূল চক্রান্তকারী কারা সেটা বুঝতে হবে। চীন দেশ বহুবছর আফিম খেয়ে ঘুমিয়ে ছিল, যখন তারা বুঝতে পারল যে ব্রিটিশরা কৌশলে তাদের আফিম রপ্তানি করছে তখন এ নিয়ে একটা যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়।
আমাদেরকেও ঘুম থেকে জেগে উঠতে হবে। সুকৌশলে ভারত আর মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রচুর মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে কিছু মাদক কে অনেকেই বিনোদনের অংশ মনে করেন। যা কিনা আমাদের সংস্কৃতি নয় বরং পাশ্চাত্যের ও মূলহীন কিছু মানুষের অনুকরণের ফলাফল। এ সকল মাদকদ্রব্য নির্দিষ্ট ডিলারদের মাধ্যমে সরকারী বেসরকারি শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানের কৌতূহলী ছাত্রছাত্রীদেরকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলতঃ তারা অর্থ খরচের পরোয়া করেনা। প্রথমে কৌতূহলী হয়ে ও পরে ধীরে ধীরে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আর একবার মাদক নিলে সেটা থেকে পরত্রাণ পাওয়া দুষ্কর। আমি বলছি না যে মাদক থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়। কিন্তু ঐ পরিত্রাণ সম্ভব করতে গিয়ে অনেক কিছুই ততদিনে শেষ হয়ে যায়। কর্মজীবনে, সমাজজীবনে, শিক্ষা জীবনে ঐ তরুণ ও উদ্যমী শক্তিগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে।
এভাবে আমাদের তরুণ শক্তিকে ধ্বংস করে ভেতরে ভেতরে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। তরুণরাই একটি জাতির ভবিষ্যতের হাতিয়ার। যদি ঐ হাতিয়ার নেশায় আর নানা রকম অপকর্মে বুঁদ হয়ে থাকে, তখন দেশ যে ধ্বংস হবে সেটা বলাই বাহুল্য আর এই চাওয়াটা কার বা কাদের হতে পারে সেটাও স্পষ্ট। দেশের আর এই মাটির কোন মানুষই চাইবে না নিজের দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক। তবে হ্যাঁ প্রত্যেকটা জাতিতে মীরজাফর আর রাজাকার এর মত মানুষও আছে। তাই সচেতন থাকাটা জরুরি হয়ে পরেছে। এটি নিয়ে অনেক দেশে রাজনৈতিক চক্রান্ত হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। কারণ কোন জায়গায় যদি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া না থাকে তাহলে শুধুমাত্র বহিরাগতদের পরিকল্পনায় এই মাদকের বিস্তার কখনই সম্ভব হত না। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখে থাকি প্রশাসন ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী মানুষেরা অর্থ, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে অপারগ তাই আমাদের তরুণ সমাজকে এই ক্ষেত্রে একত্রে এই বিষয়টাকে মোকাবেলা করতে হবে।
সাধারণ মানুষ, স্থানীয় গুরুজন এবং অপামর তরুণ জনসাধারণকে এক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। এই দলের লোকেরা সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে। দৃঢ় মনোবল ও চেতনা নিয়ে ঐ সকল নোংরা কালো থাবাকে প্রতিহত করতে পারবে।
মনে রাখতে হবে আমাদের মেরুদণ্ডে ঘুণ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এখন সেই ঘুনের উৎপত্তিস্থল খুঁজে উপড়ে ফেলতে হবে। এবং মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি বেশি মাদক বিরোধী আন্দোলনের মহড়া পরিচালনা করতে হবে। নিরাময়ের চাইতে প্রতিরোধ ও বিরোধ উত্তম, তাই মাদকদ্রব্য নিতে যে ব্যক্তি প্রস্তাব দিবে সাথে সাথে তাকে জনসাধারণের সামনে এনে মুখোশ উন্মোচন করে দিতে হবে। এবং ঐ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে রাখতে হবে। পরবর্তীতে তাকে ধিক্কার ও অপমানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমত প্রশাসনের হাতে তুলে দিব, যদি তাতে কাজ না হয়, ছবি তুলে দেয়ালে পোস্টার দিয়ে লজ্জিত করতে হবে। তাহলে আত্ম-সম্মান রক্ষায় কেউ মাদক নিতে অন্যকে উৎসাহিত করবে না।
এভাবে জন প্রতিরোধ গড়ে তুলে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রতি অনুরোধ আপনারা প্রতিরোধ ও সচেতনতার মাধ্যমে মাদক নামক শত্রু ও মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
লেখা-
শাম্মী আক্তার
সহকারী কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ও
বিহেভিওর থেরাপিস্ট(প্রাক্তন)


Comments
Post a Comment